পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩৪ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘সোরংগে’ এলাকার একটি কয়লা খনিতে এই বিস্ফোরণ হয়। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় এক খনি শ্রমিক আহমেদ জাদা জানান, "বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে খনির বাইরে থাকা অনেক শ্রমিক সহকর্মীদের বাঁচাতে দ্রুত ভেতরে নেমে যান। তবে বিষাক্ত গ্যাস ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধার করতে যাওয়া অনেক শ্রমিকও ভেতরে প্রাণ হারান।"
শুক্রবার ভোরে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আর কতজন আটকে আছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, অবশিষ্ট শ্রমিকদের শনাক্ত ও উদ্ধারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর খনির মুখে নিখোঁজ শ্রমিকদের আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য শ্রমিকদের ভিড় জমে। সেখানে দেখা গেছে, সাধারণ পোশাকে হেলমেট পরিহিত উদ্ধারকারীরা মরদেহগুলো স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন।
পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশে কয়লা খনিতে দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ দেশটির বিভিন্ন শ্রম অধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে খনি খাতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়ে আসছে।
আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও কয়লা, সোনা এবং তামার মতো প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তবে নিরাপত্তা তদারকির অভাবের কারণে এই খনিগুলোতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।