পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খনির ভেতরে আরও ১০ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পাকিস্তান সরকারের খনি পরিদর্শক ঘানি বালুচ জানান, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, "আটকে পড়া সবাইকে শনাক্ত না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।"

দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে আরও ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে খনি পরিদর্শক ঘানি বালুচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম।

বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নশেরওয়ানি উদ্ধারকাজে প্রাদেশিক সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, নিহত প্রত্যেক খনিশ্রমিকের পরিবারকে পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত এবং খনির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, খনির নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কয়লাখনি শিল্পে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ও মৌলিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। চরম দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং স্বল্প মজুরি সত্ত্বেও হাজারো মানুষ জীবিকার তাগিদে এই খনিগুলোতে কাজ করতে বাধ্য হন।