জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ২৫ জন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে কুমানোতো প্রিফেকচার সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে আঘাত হানা এই ভূকম্পনে আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে এবং প্রধান সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে দুটি বড় দুর্ঘটনা দায়ী। এর মধ্যে একটি হলো নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি পেপার মিল বা কাগজ কল, যা ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ‘অ্যাওন’ নামক একটি শপিং মলে ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।

গত মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামতো প্রিফেকচারে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

প্রাকৃতিক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি জানায়, উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রায় ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।