গত ২২ বছরের মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র সাড়ে ৬৭ শতাংশ।
আজ বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওয়েবসাইটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আইএমইডির ওয়েবসাইটে ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই দশকের মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে খরচ হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসেবে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ শতাংশ, যা এবারের তুলনায় বেশি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বিদায়ী অর্থবছরে নির্বাচনসহ বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি মন্থর ছিল। পাশাপাশি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নের নীতি এবং দীর্ঘদিনের সক্ষমতার অভাবের কারণেও এডিপি বাস্তবায়ন কম হয়েছে বলে তারা জানান।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত তিন বছর ধরে এডিপিতে ব্যয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপিতে খরচ হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। পরের বছর তা কমে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আর বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) খরচ আরও ১৩ হাজার কোটি টাকা কমে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি টাকা হয়েছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে সাধারণত সংশোধিত এডিপির ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও গত দুই অর্থবছরে তা ৭০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সংসদবিষয়ক সচিবালয়। তাদের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পুরো বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা, যা বাস্তবায়নের হার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ। এছাড়া সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করা শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২৯ দশমিক ৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ)।