অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, সেখানে কথিত ‘স্বতঃপ্রণোদিত আইন প্রয়োগ’ বা সহিংস আচরণের ঘটনাগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। পশ্চিম তীরের মোট বসতি স্থাপনকারী জনসংখ্যার ‘৯৯.৯ শতাংশই আইন মেনে চলা সুনাগরিক’।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই দাবি জানান নেতানিয়াহু। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া কিংবা হামলা চালানো নির্দিষ্ট বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে তার সরকার প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও জনসমক্ষে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার যে চিত্র তুলে ধরা হয়, তাতে বাস্তব অনুপাতের ব্যাপক অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া স্পষ্টত আইনের পরিপন্থি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে বিষয়টি যদি আপনি নিরপেক্ষ ও তুলনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তবে দেখবেন বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ মানুষই সাধারণ আইন মেনে চলেন।’
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং পর্যবেক্ষকরা নেতানিয়াহুর এই পরিসংখ্যান ও বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অধিকার কর্মীদের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগোষ্ঠীর ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত ও সশস্ত্র হামলা বর্তমানে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নজিরবিহীন এবং ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক হামলা, জলপাই বাগান ও সম্পত্তি ধ্বংস এবং জোরপূর্বক জমি দখলের মতো শত শত সহিংস ঘটনা সেখানে নিয়মিত ঘটছে।