ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান (রাফি) হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে তৃতীয় দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আগামী রোববার শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার পেপারবুক বা বৃত্তান্ত থেকে সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম, মোছা. রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
শুনানি শেষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে পেপারবুক থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন চলছে। এ মামলায় ৮৭ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন ও পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। রোববার শুনানি হবে।"
উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন, যা ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। গত ২৮ জুলাই থেকে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করলে তা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর ২৯ অক্টোবর নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছালে তা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। আসামিদের করা পৃথক আপিল ও জেল আপিলের পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্সের বিষয়ে অগ্রাধিকার বেঞ্চে শুনানি চলছে।