জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মীর হোসেন মিঠু। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পূর্বে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ডা. মীর হোসেন মিঠু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সদ্য ভূমিষ্ঠ করা শিশু চিৎকার করে জানান দেয় আমি পৃথিবীতে এসেছি, আর কথিত বিপ্লবীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে জানান দেয় আমি নেতা হতে এসেছি।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে তার বিরুদ্ধে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি জিপ ব্যক্তিগত বা অননুমোদিত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ জাহেরের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাহসীন বাহার সূচনার পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

ডা. মীর হোসেন মিঠুর মন্তব্য প্রসঙ্গে কুমিল্লায় জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”

অন্যদিকে, কুমিল্লা মহানগর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক গোলাম সামদানী বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত। যারা জুলাই আন্দোলনকে অসম্মান করেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

তবে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. মীর হোসেন মিঠু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। অনেক কথিত জুলাই বিপ্লবী অহেতুক চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। তাদের উদ্দেশ্যেই ওই পোস্ট করেছি।”