পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা ও অতর্কিত আক্রমণে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা।

বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে হাঙ্গু জেলায় এই হামলাটি চালানো হয়। উল্লেখ্য, ওই এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে সশস্ত্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

ঘটনাটি বর্ণনা করে প্রাদেশিক পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "হামলাকারীরা আধুনিক কোয়াডকপ্টার ড্রোনে হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) সংযুক্ত করে তা দিয়ে প্রথমে পুলিশের ওই চেকপোস্টে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায়।"

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ নিশ্চিত করেছেন যে, কয়েক ঘণ্টার তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে এই সাম্প্রতিক হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে নিকটবর্তী টাঙ্ক জেলায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যারা ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।

এদিকে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে নাশকতা ও প্রশিক্ষণের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, সীমান্ত সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের সম্পূর্ণ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা।