মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা আমব্রে গতকাল বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্দর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনচকেপ এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন লেগেছে। অন্যদিকে, মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করলেও সেখানে ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেনি এবং আগুনের কারণ সম্পর্কেও স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ‘এনারগোস উইন্টার’ নামের একটি ভাসমান সংরক্ষণ ট্যাংকারে আঘাত করে। এর ফলে সৃষ্ট আগুন পাশে থাকা ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি ভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র থেকেও জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক মূল্যায়নে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ড্রোন হামলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের মতে, ‘এনারগোস উইন্টার’ জাহাজের ডান দিকে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় আগুন ধরে যায়, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে বলা হয়েছে, “এ হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে ওয়াশিংটন ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীর ওপর একযোগে বিমান হামলা চালায়।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে চলমান এই সংঘাত এখন সবচেয়ে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রয়টার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওর সূত্র ধরে ঘটনার স্থানটি নিশ্চিত করেছে। বন্দরের অবকাঠামো, গ্যাস মজুত রাখার ট্যাংক ও জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটি ছিল ‘এনারগোস উইন্টার’ ও ‘গ্যাসলগ সালেম’। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির মাধ্যমে ঘটনার তারিখও নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৯ জুলাইয়ের আগে এই ভিডিওর কোনো পুরোনো সংস্করণ ইন্টারনেটে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর মালিকানাধীন ‘এনারগোস উইন্টার’ একটি ভাসমান গ্যাস মজুত ও পুনর্গঠন ইউনিট, যার ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ ঘনমিটার। জাহাজটির কারিগরি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি ‘উইলহেলমসেন শিপ ম্যানেজমেন্ট’।

মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে একটি গ্যাস রূপান্তরকারী জাহাজ ও একটি গ্যাস মজুতকারী জাহাজে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা দল তা নিয়ন্ত্রণে আনে। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাউই নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে জরুরি ও কারিগরি দলগুলো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।