একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। আগে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র গ্রাহকের নিজস্ব চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য থাকলেও, এখন থেকে মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও টাকা তোলার সুযোগ থাকবে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নতুন এই সুবিধাটি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ঘোষিত স্কিমে সংশোধন এনে চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, "অনেক গ্রাহকের চিকিৎসার বাইরে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হয়। কারও পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা, আবার কারও অন্য জরুরি পারিবারিক খরচ মেটাতে টাকার প্রয়োজন হতে পারে। আগের স্কিমে সে সুযোগ না থাকায় সংশোধনের মাধ্যমে তা যুক্ত করা হয়েছে।"

উল্লেখ্য, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।

এছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।