ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং তীব্র মানসিক চাপের মুখে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জন সেনা সদস্য আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহননকারী ১৬ জনের মধ্যে সাম্প্রতিক মাত্র দুই দিনেই দুজন নারী সেনা নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। নিহত নারী সেনাদের একজন মিশর সীমান্তের কাছে ‘বারদেলাস ব্যাটালিয়নে’ কর্মরত ছিলেন এবং অন্যজন তেল আবিবের কাছে অবস্থিত ‘গ্লিলট’ ঘাঁটির গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন।

হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ওই সেনাসদস্য তীব্র মানসিক অবসাদের কারণে আগেই সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি অথবা কাজের চাপ কমানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই দুটি আত্মহত্যার ঘটনার পর পৃথক তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলের মিলিটারি পুলিশ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চালানো সামরিক অভিযান, লেবাননের যুদ্ধক্ষেত্র এবং পশ্চিম তীর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি ও যুদ্ধের ক্ষতিকর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এই ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতির পেছনে গভীর ভূমিকা রাখছে।

এর আগে ২০২৫ সালেও কর্মরত সেনাদের মধ্যে অন্তত ২২টি আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা দেশটির সেনাবাহিনীর ইতিহাসে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন এবং যুদ্ধের নৃসংশতা প্রত্যক্ষ করার ফলে ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের মাঝে ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ও তীব্র মানসিক ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে।