নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের রাজপথ ছাড়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি এখন সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন বৈঠক শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। তাদের লক্ষ্য এখন একটি বৃহত্তর জোট গঠন করা, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারবে। এই উদ্দেশ্যেই গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে দীর্ঘ গোপন বৈঠক করেন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক শেষে আশুতোষ রাঙ্কা জানান, "নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের যুবসমাজ ও কৃষক সম্প্রদায়কে এক ছাতার নিচে এনে একটি বৃহত্তর জোট গঠন করা হচ্ছে।"

সরকার যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তবে যৌথভাবে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রীয় সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কোনোটিই বাস্তবে কার্যকর হয়নি। উল্টো বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এসব মামলা প্রত্যাহারে তারা কৃষক সংগঠনগুলোর পূর্ণ সমর্থন চেয়েছে।

এদিকে, একই দিনে ভারতের শীর্ষ আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, অপরাধের কোনো ইতিহাস না থাকলে আটককৃত নাবালক বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলার রেকর্ড রয়েছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা আইনি ব্যবস্থার ওপর শ্রদ্ধাশীল হলেও "নিট কেলেঙ্কারিকেন্দ্রিক সকল এফআইআর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্তেই আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন।"

আদালতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে সিজেপি।