ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সরাসরি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার (২৯ জুলাই) লোকসভায় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেন।

সংসদে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সম্পূর্ণভাবে আরএসএস পরিচালনা করছে। দেশে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে ওঠার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের নিজেদের মতপ্রকাশের বা প্রশ্ন তোলার কোনো স্বাধীনতা বা অনুমতি নেই।’

শিক্ষা কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের বিষয়ে অভিযোগ করে তিনি জানান, আরএসএস ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত করে যেসব ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক তথ্য প্রচার করছে, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তা জোরপূর্বক মেনে নিতে ও মুখস্থ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলোর প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বর্তমানে ভারতের প্রায় প্রতিটি বড় এবং শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে বসানো হয়েছে একেকজন আরএসএস কর্মীকে।’

বর্তমান শিক্ষানীতিকে বাণিজ্যিকীকরণের হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা সাধারণ দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। রাহুল গান্ধীর মতে, ছাত্ররা ‘অস্বস্তিকর প্রশ্ন’ তুলেছিল, যার উত্তর দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘খুবই ভীত’ ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদের গুলি করার অনুমোদন দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ছাত্রদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরপরই বিধানসভায় তীব্র হট্টগোল ও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীর কাছে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।