চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এই সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ বেড়েছে ৫৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সেই হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই গত বছরের মোট মুনাফার ৬৩ শতাংশের বেশি অর্জন করে ফেলেছে ব্যাংকটি।
গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যাংকটির মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে সুদ থেকে নিট আয় এবং বিনিয়োগ আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি–জুন সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা শূন্য ৯ পয়সা। এছাড়া ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে হয়েছে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত ছিল। এই সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৫ পয়সা।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেওয়া ঘোষণা অনুসারে, নিট আয় ও বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধির ফলে প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। পাশাপাশি আমানত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়েছে। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি এবং সরকারি সিকিউরিটিজের পুনর্মূল্যায়নে রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সুদের মার্জিন দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের কৌশলগত সম্প্রসারণ এবং এসএমই খাতে ঋণের নেতৃত্ব ধরে রাখার ফলে ব্র্যাক ব্যাংক এই সাফল্য অর্জন করেছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস এবং ২০২৩ সালে মোট ২০ শতাংশ (১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস) লভ্যাংশ প্রদান করেছিল ব্র্যাক ব্যাংক।