রাজধানীর মিরপুরে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে এসে দেয়ালধসের ঘটনায় বিউটি বেগম (৫০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এই ঘটনায় আহত আরও সাতজন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিউটি বেগমের মৃত্যু হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, দেয়ালধসের ঘটনায় আগে মারা যাওয়া অপর দুজন হলেন নাসিমা বেগম (৪৪) ও মো ফিরোজ (৪৩)। নাসিমা বেগম মিরপুরের ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ফিরোজ মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, "দেয়াল ধসের ঘটনায় বিউটি বেগম গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।"
তিনি আরও জানান, "বিউটি বেগম ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়।"
মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের ওই দেয়াল ঘেঁষে প্রতিদিন ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। কম দামে নিত্যপণ্য সংগ্রহের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষেরা সেখানে ভিড় করেন। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে প্রতিদিনের মতো পণ্য সংগ্রহের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর হঠাৎ দেয়ালটি ধসে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন চাপা পড়েন এবং দুজনের মুখ ও পা থেঁতলে যায়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত দেয়াল সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রাজিয়া বেগম (৫৫), মনোয়ারা বেগম (৩৭) ও মোশাররফ হোসেন (১৯) সেখানে চিকিৎসাধীন। রাজিয়া বেগম ডান পায়ে, মনোয়ারা বেগম হাতে ও বুকে এবং মোশাররফ হোসেন পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
আহত রাজিয়া বেগমের মেয়ে মাহফুজা আক্তার মুক্তকণ্ঠকে জানান, তাঁর মা সকালে মিরপুর ৬ নম্বর এলাকার বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পথে টিসিবির গাড়ি দেখতে পেয়ে সেখানে যান এবং হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় আহত হন।