চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অর্ণবের মরদেহ উদ্ধার করেন সহপাঠীরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বিবরণ অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসলের সময় হঠাৎ তাঁরা লক্ষ্য করেন যে অর্ণবের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁরা টর্চলাইট ব্যবহার করে এবং নাম ধরে ডেকে পুকুরে তাঁর সন্ধান করতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের চিৎকার ও কোলাহল শুনে আশপাশের হল থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী সেখানে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে পুকুরঘাটের পাশে পানির নিচে অর্ণবের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের নিজের কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সবার চিৎকার শুনে সেখানে যাই। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর খোঁজাখুঁজি শেষে তাঁর দেহ হলের পুকুর থেকে তুলতে দেখি।’

উদ্ধারের পর দ্রুত তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজেশ দেব জানান, ‘তাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে নিয়ে এলে আমরা সমস্ত যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। সিপিআর (জরুরি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাইনি। বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে ছিল। তাই আগেই মারা গেছে।’

পরবর্তীতে অর্ণবকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁকে এভারকেয়ারে নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন বেঁচে নেই।’