রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ শাখা থেকে গত ২৭ জুলাই (২০২৬) জারি করা এক নোটিশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’-এর মাধ্যমে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ২৯ জুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যারা বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত কমিটি। এই প্রক্রিয়ায় ওই কার্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে (৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী) উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাজিরা দেওয়ার সময় কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে তাদের অভিভাবক বা প্রতিনিধিও সঙ্গে থাকতে পারবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই আউটসোর্সিংয়ের এসব পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক একটি পদের বিপরীতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মুক্তকণ্ঠ’-এ এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে এবং তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন। তার দাবি, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং কারো কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্ত কমিটির সামনে ১৪৩ জন কর্মীর সরাসরি জবানবন্দি গ্রহণের সিদ্ধান্তটি এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।