বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধিমালা ব্যত্যয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিপিএএমইএর (সাবেক বিজিএপিএমইএ) নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আগামী শনিবার একজন সভাপতি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ পরিচালক পদে ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা এবং চট্টগ্রামে দক্ষিণ খুলশীর বিজিএমইএ ভবনের মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের জন্য ৬ সহসভাপতি ও ১৫ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও আদজি ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহরিয়ার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের এমডি জামিল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামিল আহমেদ ছাড়া বাকি সব প্রার্থী ঐক্য পরিষদের।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই সভাপতি প্রার্থী জামিল আহমেদ ও সংগঠনের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালকের কাছে আলাদা আলাদা আবেদন করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। তাঁদের অভিযোগ, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পরপর দুইবার পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তী একবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এই বিধি অমান্য করে সভাপতি পদে মো. শাহরিয়ার ও দ্বিতীয় সহসভাপতি পদে মো. মনিরুজ্জামান মোল্লাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপিদের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তোলা হয়।
মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানোর আগে বিপিএএমইএর নির্বাচন বোর্ড এবং পরবর্তীতে আপিল বোর্ডের কাছে একই আবেদন করেন জামিল আহমেদ ও মোহাম্মদ বেলাল। তবে আপিল বোর্ড অভিযোগটি বাতিল করে মো. শাহরিয়ার ও মো. মনিরুজ্জামান মোল্লার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। এ বিষয়ে বিপিএএমইএ নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ূব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা গত বছরের মে মাসে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে সরকার। সেখানে বলা ছিল, বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। সেই হিসেবে সভাপতি ও সহসভাপতি পদের দুজনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আইন বা বিধি যখন কার্যকর হয় তখন থেকেই সবকিছু বিবেচনা করতে হয়। ভূতাপেক্ষ কোনো কিছুতে তা প্রয়োগ করা যায় না। সে জন্যই আমরা অভিযোগটি বাতিল করে দিয়েছিলাম।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে গতকাল সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিপিএএমইএ ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিপিএএমইএর সভাপতি প্রার্থী মো. শাহরিয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য যখন সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, ঠিক সেই সময়ে বিপিএএমইএর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছি। তবে একটি মহল অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে তাঁদের কাউকেই ডাকা হয়নি।”