ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করছেন বলে দাবি করেছেন সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার বৈঠকের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

ন্যাটো প্রধানের মতে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কীভাবে আরও চাপ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার এই সংঘাত পঞ্চম বছরে পদার্পণ করলেও এর অবসানের কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার গতি কিছুটা হ্রাস পেলেও পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত এলাকাগুলোতে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী কিভসহ বিভিন্ন ইউক্রেনীয় শহরে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে রুশ বাহিনী।

পাল্টা কৌশলে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে তাদের আয়ের প্রধান উৎসগুলোতে আঘাত হানছে ইউক্রেন। এর অংশ হিসেবে কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে তেল ও জ্বালানি বহনকারী রুশ জাহাজগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে তারা, যার মূল লক্ষ্য হলো রুশ-অধ্যুষিত ক্রিমিয়া অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে ইউক্রেনীয় আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের হাজার কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে চলেছে।

সংঘাত নিরসনের নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সাথে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। সোমবার (২৭ জুলাই) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন সংকটের নতুন কোনো শান্তি প্রস্তাব সম্পর্কিত নির্দিষ্ট তথ্য এখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি।