চট্টগ্রামে সাত বছর বয়সী শিশু মাহফুজকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে মো. আল আমিন (৩৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মামলার আলামত গুম করার অপরাধে তাকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নিশাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকার জিন্নাহ আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রীসহ হালিশহর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি কলোনিতে বসবাস করতেন। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগী শিশু মাহফুজের খালু।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন পোর্ট কানেক্টিং রোডের পাশে একটি নির্জন স্থানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশু মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আল আমিন। এরপর লাশ ও আলামত গুম করার উদ্দেশ্যে তা পাশের একটি নিচু ড্রেনে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. মাহবুব বাদী হয়ে হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী মাহবুব পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক এবং তার স্ত্রী পোশাকশ্রমিক। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে মাহফুজ ছিল মেজ। অন্যদিকে আল আমিন ছিলেন মাহবুবের শ্যালিকার স্বামী। তারা একই এলাকায় বসবাস করতেন। আল আমিন প্রায়ই নেশা করে তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। এসব অপকর্ম ও পারিবারিক সহিংসতায় বাধা দেওয়ায় মাহবুব ও তার পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আল আমিন। এরই জেরে প্রতিহিংসাবশত শিশু মাহফুজকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা চালান তিনি।

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।