বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় হাঁস নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির লাথির আঘাতে আহত হয়ে ইয়ারুন নেছা (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়ারুন নেছা একই গ্রামের রূপচান মাঝির স্ত্রী। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান (১৮) ইয়ারুন নেছার মেয়ের ছেলে। পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করা এই দুই প্রজন্মের আলাদা দুটি হাঁস ছিল। গত রোববার বিকেলে মেহেদী তাঁর হাঁসটি খুঁজে না পেয়ে নানির হাঁসটিকে নিজের বলে দাবি করেন। এই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইয়ারুন নেছা হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করলে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মেহেদী তাঁকে লাথি মারেন। এতে ইয়ারুন নেছা মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যান।

ঘটনার পর ওইদিন সন্ধ্যায় স্বজনরা তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত নারীর বড় ছেলে সোহরাব মাঝি আক্ষেপ করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার মায়ের এমন পরিণতি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার গতকাল রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মরদেহটি বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।