ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের ফলে ক্যানসার ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সমঝোতার পথে হাঁটছে মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া প্রায় ৬৯ হাজার মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে কোম্পানিটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮ হাজার ২০ কোটি টাকা।

অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ট্যালক-ভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে বহু নারী ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোম্পানিটি এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

জেঅ্যান্ডজে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হবে, যা তাদের বিরুদ্ধে ট্যালকম পাউডার সংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে সম্মত হতে হবে।

প্রসাধনী ও বেবি পাউডারে ব্যবহৃত নরম প্রাকৃতিক খনিজ ট্যালকের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্র পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং এর ব্যবহার হ্রাস পায়। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ট্যালককে ‘মানব দেহে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ উপাদান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তাদের ট্যালকম পাউডারের কারণে ক্যানসার হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ভোক্তাদের উদ্বেগ এবং আইনি জটিলতা এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী তাদের ঐতিহ্যবাহী বেবি পাউডার বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন আদালতের একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত এক নারীর পরিবারকে ৭২ মিলিয়ন ডলার (৮৯০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জেঅ্যান্ডজে-কে, যা প্রসাধনী খাতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ওই রায় খারিজ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার ভুক্তভোগী নারী কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জেঅ্যান্ডজে-এর মামলা বা আইনি বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেছেন, ‘বিশাল এই আর্থিক চুক্তির মধ্য দিয়ে কোম্পানি অবশেষে এই দীর্ঘমেয়াদী বিতর্কিত বিষয়টিকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।’

ভুক্তভোগী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এক দশকের এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত মীমাংসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই চুক্তির বিচারিক এখতিয়ার কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মামলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকায় এটি যুক্তরাজ্যে প্রযোজ্য হবে না। বর্তমানে লন্ডনের হাইকোর্টে ৭ হাজারের বেশি গ্রাহকের দায়ের করা একটি বৃহত্তম পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।