বিশ্বের শীর্ষ বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ সিরিজের শত শত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি ধরা পড়েছে। এসব বিমানের আসনগুলো ভুলভাবে স্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শনের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে এফএএ জানায়, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ৪৫৩টি ৭৩৭ ম্যাক্স বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে এই আসনজনিত ত্রুটি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিমান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে প্রতিটি আসন অবিলম্বে সঠিকভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এফএএ।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, উড়োজাহাজের সিটগুলো নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে অ্যাঙ্কর বা ইনস্টল করা না হলে কোনো আকস্মিক ঝুঁকি বা জরুরি অবতরণের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে আসনগুলো আলগা হয়ে যেতে পারে। ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। এছাড়া আসন উপড়ে গেলে বিমানে যাতায়াতের জরুরি পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে, যা সংকটকালীন দ্রুত বিমান খালি করার গতিকে বিপজ্জনকভাবে মন্থর করবে।
প্রস্তাবিত এই সরকারি আদেশটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ওপর প্রযোজ্য হবে, কারণ এফএএ বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্সকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী, মার্কিন আকাশসীমায় এফএএ কোনো সুনির্দিষ্ট বোয়িং মডেলের ওপর নিরাপত্তা আদেশ জারি করলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও দ্রুত সেই আদেশ অনুসরণ ও কার্যকর করে থাকে।
বোয়িংয়ের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন অপারেটরদের কাছে এ বিষয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল। তিনি ইমেইলে জানান, ‘এফএএ কর্তৃক ওই নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করি।’
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই আসন কেলেঙ্কারি বোয়িংয়ের দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত নিরাপত্তা ভাবমূর্তির ওপর নতুন এক ধাক্কা। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ‘আলাস্কা এয়ারলাইন্স’-এর একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ বিমানের কেবিন প্যানেল মাঝআকাশে খুলে পড়লে যাত্রীরা অলৌকিকভাবে রক্ষা পান। তদন্তে দেখা যায়, প্যানেলটি যে স্থানে আটকানো ছিল, সেখানে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বোল্টই ছিল না। ওই ঘটনার পর এফএএ ১৭১টি ম্যাক্স বিমানের উড্ডয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) জানায়, চরম অবহেলা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও তদারকির অভাবেই আলাস্কা এয়ারলাইন্সের মতো ভয়াবহ জীবনঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা আইবিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেট চলাচল করছে, যার মধ্যে ৮২৩টি যুক্তরাষ্ট্রে পরিষেবা দিচ্ছে।