অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নবী হজরত মুসা (আ)-এর ঐতিহাসিক কবরের পাশে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে নতুন অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তুলেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সময়ে পশ্চিম তীরেও বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের এই বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা সোমবার (২৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় গত কয়েক মাসে চরম আগ্রাসী মনোভাবের সাথে অবৈধ বসতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বাড়ছে, যা প্রায়শই ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায়’ সংঘটিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে উগ্র ইসরায়েলি উপনিবেশকারীরা নবী মুসা (আ)-এর কবরের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে অস্থায়ী চৌকি ও অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে। মূলত ওই অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জোরপূর্বক ভূখণ্ডের নতুন মালিকানা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই বসতি গড়ে তোলা হয়েছে।
জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী এলাকায় ইসরায়েলিদের ভূখণ্ড দখলের এই প্রবণতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। নতুন বসতি স্থাপনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের চারণভূমি ও কৃষি জমি দখলের ফলে স্থানীয়দের অস্তিত্ব ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর, বিশেষ করে জেরুজালেমের চারপাশের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর ভৌগোলিক সংহতি ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এদিকে আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ‘কোনো আইনি বৈধতা নেই’ এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’।
পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা এবং বিদ্যমান বসতিগুলোকে বৈধতা দিয়ে নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। গুতেরেস আরও বলেন, এসব বসতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ‘ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সার্বিক শান্তি’ প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা।