সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পেছনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের পর এবার ভারতের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নেমেছে নতুন সংগঠন ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ (ইজেপি)। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর সরকারি নীতির প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্মের এই দলটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সরব।

রোববার (২৭ জুলাই) আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘হ্যাঁ, আমরা কাঁকড়া’ স্লোগানে এবং ‘কাঁকড়া’ প্রতীক ব্যবহার করে ভারতজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এই সংগঠনটি। সিজেপির আদলে মিম ও ব্যঙ্গাত্মক কৌশলকে হাতিয়ার করে গত ২৬ জুলাই সামাজিক মাধ্যম এক্সে তারা কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, "গ্রাহকদের সবকিছু জানার অধিকার রয়েছে। জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে স্পষ্ট দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় বিষয় নয়, বরং জনস্বার্থের বিষয়। আসুন, আমরা একসেঙ্গ সোচ্চার হই এবং ইথানল নীতি নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করি।"

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা সরাসরি ইথানল মিশ্রণের বিরোধিতা করছে না এবং বিদ্যমান জ্বালানিতে কোনো ভর্তুকিও দাবি করছে না। তাদের মূল লক্ষ্য জ্বালানি নীতিতে পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের পছন্দমতো জ্বালানি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ইজেপির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশের প্রতিটি খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোলের ব্যবস্থা রাখা, ইথানল মিশ্রণের হার, খরচ ও প্রভাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, মাইলেজ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ওপর প্রভাব মূল্যায়নে নিরপেক্ষ সমীক্ষা চালানো।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তৈরি হওয়া একটি এক্স অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সিজেপির নেপথ্যে অভিজিৎ দীপকের নাম থাকলেও ইজেপির উদ্যোক্তাদের পরিচয় এখনো গোপন। তবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই দলটির ইনস্টাগ্রামে সোয়া দুই লাখ এবং এক্সে ৩৫ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে।

জ্বালানি সংক্রান্ত মূল নীতি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হলেও, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী দীর্ঘদিন ধরে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোলের পক্ষে সোচ্চার থাকায় তার পদত্যাগ দাবি করছে আন্দোলনকারীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, গডকড়ীর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে তিনি এই নীতির প্রচারণা চালাচ্ছেন, যদিও এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে বিরোধী দলগুলো বিষয়টি পার্লামেন্টে তোলার কথা জানিয়েছে।

এদিকে ভারতে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাড়ি মালিকদের অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমে যাচ্ছে, যা সম্প্রতি ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। বিপরীতে সরকারের দাবি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পেট্রোলে ইথানল ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ থাকলেও তা এখন ২০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় বিপুল রাজস্ব সাশ্রয় হচ্ছে এবং কার্বন নির্গমন কমছে।

সরকারের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় ইজেপি। তাদের অনলাইন তৎপরতার পাশাপাশি দিল্লি ট্যাক্সি ও পর্যটক পরিবহনকারী সংস্থা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আগামী ৩১ জুলাই দিল্লিতে গাড়ি মিছিল এবং ৪ আগস্ট ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—"পেট্রোলের পুরো দাম পরিশোধ করা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কেন ইথানল মিশ্রিত নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে?"