সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ২০১৯ সালের পর এই অঞ্চলে হুথিদের এমন বড় ধরনের হামলার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো। তবে এই হামলায় তেল স্থাপনাগুলোর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুথিদের এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ‘পেট্রোলাইন’ নামে পরিচিত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমেই দেশের পূর্বাঞ্চলীয় খনিগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি পরিবহনের জন্য সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এই রুট দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণ ১০ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছিল। এমন সংকটময় সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে হুথিদের হামলা রিয়াদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই হামলার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর জবাবে হুদাইদাহ বন্দর, কামারান দ্বীপ এবং সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামরিক অভিযান চালাতে পারে রিয়াদ। সৌদির দাবি, লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে এসব এলাকা ব্যবহার করছে হুথিরা।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হুথিরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের লক্ষ্য করে চালানো সৌদি আরবের হামলায় ইয়েমেনের বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে তাদের সামরিক শক্তিতে কোনো বড় প্রভাব পড়েনি।