চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বর্জ্য অব্যবস্থাপনার এক জীর্ণ চিত্র। সড়কের পাশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লার স্তূপে প্রতিদিন টনে টনে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রবে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের মকিমাবাদ রেলসংযোগ খালের পাশ, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের মিঠানিয়া ব্রিজ এলাকা এবং হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের বড়পুল ব্রিজসহ বেশ কিছু জনবহুল স্থানের খোলা জায়গায় নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পচনশীল বর্জ্য থেকে নির্গত দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত পরিবেশের কারণে পথচারী এবং আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার দশক অতিবাহিত হলেও পৌরসভায় এখনো আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা হয়নি। এমনকি শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথের ‘স্বাগতম’ ও ‘বিদায়’ তোরণ এলাকাতেও ময়লার স্তূপ জমে থাকায় পৌরসভার সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আগত দর্শনার্থীদের কাছে একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ময়লা মিশ্রিত পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।"

সচেতন মহল দ্রুত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, "রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।"