মহাবিশ্বের বড় অংশ জুড়ে থাকা অদৃশ্য উপাদান সম্পর্কে অনুসন্ধান থামেনি। আমাদের দেখা জগতের বাইরেও যে শক্তি রয়েছে, সেটির নাম ডার্ক ম্যাটার। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ডার্ক ম্যাটার আমাদের পরিচিত চার মাত্রার সীমানা পেরিয়ে পঞ্চম মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রাপ্ত তথ্যে ডার্ক ম্যাটার নিয়ে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়—এমন সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত এই মাত্রার জ্যামিতিক গঠনের ফলে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলোর মধ্যে একধরনের অনুনাদ বা রেজোন্যান্স তৈরি হতে পারে। এমন বিন্যাস কণাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোয় সাজাতে সহায়তা করে। আমাদের দৃশ্যমান বিশ্ব সাধারণ চার মাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ—তিনটি স্থানিক মাত্রা ও একটি সময়ের মাত্রা। এই চার মাত্রার বাইরে খুব ক্ষুদ্র ও গুটানো একটি অতিরিক্ত স্থানিক মাত্রায় ডার্ক ম্যাটার স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তেইগিউ লি বলেন, ‘আমাদের মডেলে, আমরা নিজেদেরসহ যেসব কণা পর্যবেক্ষণ করতে পারি, সেগুলো চার মাত্রিক স্থানে অবস্থান করে। এর মধ্যে একটি সময় এবং তিনটি স্থানিক মাত্রা রয়েছে। তবে ডার্ক ম্যাটার চার মাত্রার পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি স্থানিক মাত্রায় মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। এই মাত্রাটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং গুটানো অবস্থায় রয়েছে।’

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, দৃশ্যমান সাধারণ পদার্থ মহাবিশ্বের মোট ভরের ৫ শতাংশ। বাকি অংশে ডার্ক ম্যাটার ২৭ শতাংশ এবং ডার্ক এনার্জি ৬৮ শতাংশ দখল করে আছে। গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনে ডার্ক ম্যাটার এক ধরনের নিয়ামকের ভূমিকা রাখে বলেও আলোচনা করা হয়।

এই নতুন মডেলে ডার্ক ম্যাটার কীভাবে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে—সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গবেষণার সহলেখক শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ-দাই সাই বলেন, ‘আমাদের মডেলে ডার্ক ম্যাটার এখনো সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। তবে এটি “ডার্ক ফোটন” নামের একটি কণার মাধ্যমে খুব মৃদুভাবে ঘটে। ডার্ক ম্যাটারের অনুনাদ একটি শক্তিশালী ধারণা হিসেবে আগে থেকেই পরিচিত। আদি মহাবিশ্বে কীভাবে ডার্ক ম্যাটার তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানে আমরা কীভাবে এটি খুঁজছি, সেই ধারণাকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এর রয়েছে।’

সাই আরও বলেন, ‘এটি আদি মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটারের মিথস্ক্রিয়াকে অনেক বেশি কার্যকর করে তোলে। এই বুস্ট বা শক্তির কারণে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে সংযোগ অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিমাণে ডার্ক ম্যাটার তৈরি হতে পেরেছে।’

গবেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থে শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে ইলেকট্রনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মেপে ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি খোঁজা যেতে পারে। অন্যদিকে কণা ত্বরণযন্ত্রের মাধ্যমে ‘ডার্ক ফোটন’ তৈরি করে শক্তির ঘাটতি পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভরের বিন্যাসে সংকেত পাওয়া গেলে সেটি পঞ্চম মাত্রার পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।