দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম পত্রের পরিবর্তে ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। এই গুরুতর গাফিলতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৯ জন পরীক্ষার্থীর হাতে ভুল করে ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্রের’ (৪ নম্বর সেট) প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানান। এরপর দ্রুত ভুল প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয় এবং পার্শ্ববর্তী সেতাবগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে সঠিক প্রশ্নপত্র এনে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এই ঘটনার ফলে ৯ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়েছে। সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের হল সুপার আবুল কাশেম জানান, "প্রশ্নপত্রের খামের ওপর ‘ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র’ লেখা থাকায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তা খুলে বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীরা ভুল ধরার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নগুলো ফেরত নেওয়া হয়। পরে পার্শ্ববর্তী সেতাবগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে বিতরণ করা হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ৪৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে কেবল ৩০১ নম্বর কক্ষের নয়জন পরীক্ষার্থীর কাছে ভুল প্রশ্নপত্র গিয়েছিল।

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ হোসেন বলেন, "ভুলবশত একটি কক্ষে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তা ফেরত নেওয়া হয় এবং পাশের কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্ন এনে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সময়টুকু অতিরিক্ত হিসেবে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে।"

ইউএনও আরও জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কুশল চন্দ্র রায়, হল সুপার আবুল কাশেম এবং ট্যাগ কর্মকর্তা (উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী) ওয়াহিদা ফারজানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, "ভুলবশত ৯ পরীক্ষার্থীর হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন ফেরত নিয়ে পাশের কেন্দ্র থেকে সঠিক প্রশ্নপত্র এনে তাদের দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সময় নষ্ট হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ১০ মিনিটের মতো সময় দেওয়া হয়েছে।"