রাঙামাটির প্রাণকেন্দ্র বনরূপা এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বন বিভাগের কার্যালয়ের আঙিনা এখন অসংখ্য বাদুড়ের আবাসস্থল। কার্যালয়ের গাছগুলোতে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকা বাদুড়গুলোকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছের ফল। মাঝে মাঝে কোনো বাদুড়ের ডানা ঝাপটানোর শব্দে পরিবেশটি রহস্যময় হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি ওই কার্যালয়ের আঙিনায় দেখা যায়, আকাশমণি, বহেরা, তেলসুর, বাটিজাম, ঝাউগাছ ও ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন গাছে অসংখ্য বাদুড় ঝুলে আছে। এদের অধিকাংশ স্থির থাকলেও কিছু বাদুড়কে ডালপালা জুড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

সরেজমিনে বন বিভাগের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় বাদুড়দের আনাগোনা রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই তাদের ছোটাছুটি বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নবী বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ধরে আমি এখানে বাদুড় দেখে আসছি। মাগরিবের আজানের সময় এরা উড়ে যায়। রাতভর ঘুরে ভোর হওয়ার আগেই ফিরে আসে।’

অফিস এলাকায় সারাদিন যানবাহন ও মানুষের প্রবল কোলাহল থাকলেও বছরের পর বছর ধরে এই বাদুড়গুলো নিশ্চল হয়ে গাছে ঝুলে থাকে। বন বিভাগের কর্মীরা বিশেষ খেয়াল রাখেন যেন কেউ এই প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত না করে বা ঢিল না ছোড়ে।

বন কর্মকর্তাদের মতে, বাদুড় রাতে দূরদূরান্তে উড়ে গিয়ে ফল খেয়ে বীজ পাহাড়ে ছড়িয়ে দেয়, যা প্রাকৃতিকভাবে বনায়নে সহায়তা করে। এছাড়া ক্ষতিকর মশা, মাছি ও পোকামাকড় খেয়ে এবং ফুল-ফলের পরাগায়ন ঘটিয়ে তারা পাহাড়ি বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করে।

দক্ষিণ বন বিভাগের জুরাছড়ি রেঞ্জার মো আবদুল হামিদ মুক্তকণ্ঠকে জানান, কয়েক বছর আগে রাঙামাটি সদর রেঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন তিনি এই কার্যালয়ের আঙিনায় বাদুড় দেখে বিমোহিত হতেন। তাঁর স্মৃতি অনুযায়ী, তখন সেখানে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার বাদুড় ছিল।

দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বন বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে এসব বাদুড়ের এক গভীর সখ্য তৈরি হয়েছে। আমরা এদের কোনো ক্ষতি করি না, ওরাও পরম নিশ্চিন্তে গাছে ঝুলে থাকে। এটি হয়ে উঠেছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়।’