ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এই প্রাণঘাতী রোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১০ দিনের মধ্যে প্রায় এক হাজার নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত দেশটির পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চেষ্টা চলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রদেশে মোট ৩ হাজার ৭৫টি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আগের চেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গত ১৫ মে শনাক্ত হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বান্দিবুগিও’ ধরন থেকে ছড়িয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের বাসিন্দা। দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী এই এলাকায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। এরই মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের ফলে কিছু হাসপাতালে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শের মাধ্যমে ইবোলা ছড়ায় এবং আক্রান্ত হলে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর দেখা দিতে পারে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকা মহাদেশে ইবোলায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলার টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার প্রথম স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের এই ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা দ্রুত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।