শিক্ষার্থীদের সংসদ অভিযান ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য ছররা গুলি (পেলেট) চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) ওই জওয়ান অন্তত ৭টি ছররা গুলি চালিয়েছিলেন। আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সিআরপিএফ-এর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ছোড়া ৭টি গুলির মধ্যে ২টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং ৫টি আন্দোলনকারীদের আঘাত করে। তবে এই বিষয়ে সিআরপিএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি।
কয়েক দিন ধরেই পেলেটের আঘাতে আহত আন্দোলনকারীদের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একজন আহত আন্দোলনকারীকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, এমন আহত ব্যক্তি আরও রয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমও আহতদের ছবি প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার নিয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি জানতে চেয়েছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর কেন ছররা গুলি চালানো হলো এবং সেই নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দিয়েছিলেন কি না।
রাহুল গান্ধী তাঁর চিঠিতে প্রশ্ন করেছেন, "অমিত শাহ ছররা গুলি চালানোর নির্দেশ না দিলে কে দিয়েছিলেন? পুলিশের সঙ্গে মিশে সাধারণ পোশাকে যাঁরা ছিলেন, যাঁরা নির্বিচার লাঠি ও ব্যাটন চালিয়েছেন, তাঁরাই–বা কারা? পুলিশ, নাকি স্বেচ্ছাসেবী? কে তাঁদের ওভাবে সাদাপোশাকে অত্যাচার করতে দিয়েছে?" গত রোববার তিনি এই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন।
এর আগে রাহুলসহ বিরোধী দলগুলো দাবি জানিয়েছিল, শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। ছররা গুলির বিতর্ক শুরু হলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, তারা পেলেটগান ব্যবহার করেনি। পরবর্তীতে জানা যায়, সিআরপিএফ এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে র্যাফকে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর ছেড়ে চলে গেলেও বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের ওপর আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দিল্লি পুলিশ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রনেতারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন, যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মেনে নিয়েছিলেন। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নির্দেশ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দিল্লিফেরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন রাজ্যে হামলার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে হিন্দু বীর সেনার এক কর্তা দুই ছাত্রকে চড় মারার একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে আটটি এফআইআর থাকলেও এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আলাদা এক অভিযোগ উঠেছে যন্তর মন্তরে বিনামূল্যে খাবার বিলির বিষয়ে। এক ব্যক্তির দাবি, পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তাঁকে আটক করে চোখ বেঁধে মুসৌরি নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়। পুলিশ এই অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।