ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে আইজেনকোটের উত্থান দেশটির রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি 'ইয়াশার' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আসনসংখ্যার পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে সামান্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার। জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার ২৩টি এবং লিকুদ ২২টি আসন পেতে পারে। একই জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৪৩ শতাংশের মতে, ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে উপযুক্ত মনে করেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
জরিপের ফলাফল প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, "জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৪৩ শতাংশের মতে, ৬৬ বছর বয়সী গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে উপযুক্ত মনে করেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।"
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাফল্য বা ব্যর্থতা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মূল বিবেচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইজেনকোট ১০ দফা কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচি ইসরায়েলের নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করবে।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান (চিফ অব স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আইজেনকোট তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২৩ সালের হামাসের রক্তক্ষয়ী হামলার বিষয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। ওই হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নেয় এবং নেতানিয়াহু সরকারের গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। হাজার হাজার ইসরায়েলি এই তদন্ত কমিশনের দাবিতে বিক্ষোভ করলেও নেতানিয়াহু সরকার রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
আইজেনকোট ‘নতুন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তানীতি’ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার লক্ষ্য সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং সীমান্তনিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষার কথা বলেছেন। তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সামগ্রিক প্রশ্নে তাঁর অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। উল্লেখ্য, আইজেনকোট উগ্রবাদী ধ্যানধারণা পোষণ করেন এবং হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত তিনি চান, শত্রুপক্ষের হামলার তুলনায় ইসরায়েল অনেক বেশি শক্তিশালী সামরিক জবাব দেওয়ার নীতি গ্রহণ করুক।