দীর্ঘদিন লোকসানের পর পুনরায় মুনাফায় ফিরেছে ইলেকট্রনিকস খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) কোম্পানিটি প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই তথ্য জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদিত হয়। এরপর আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সংক্ষিপ্ত আকারে লাভ-লোকসানের হিসাব জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুদ বাবদ খরচ হ্রাস এবং ব্যাংকে আমানতের বিপরীতে সুদ আয় বৃদ্ধি কোম্পানিটিকে মুনাফায় ফেরাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গার ৮৩৭ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যবসা বেড়েছে ২৬ কোটি টাকা বা সোয়া ৩ শতাংশ। তবে বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসায় বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৫৭৭ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যবসা বেড়েছে ২৬০ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

ব্যবসায়িক উন্নতির পাশাপাশি ব্যাংক সুদে আয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এই খাত থেকে কোম্পানিটি প্রায় ২৪ কোটি টাকা আয় করেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে কোনো আয় ছিল না, বরং ব্যাংক সুদের ব্যয় ছিল বেশি।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা হলেও বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা লোকসান করায় অর্ধবার্ষিক হিসেবে এখনো লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি সিঙ্গার। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি–জুন) শেষে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৬ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় ফেরার খবরে আজ ঢাকা বাজারে সিঙ্গারের শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা বা দেড় শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় সোয়া এক লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশ বর্তমানে দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত। এই কারণে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ারের বিপরীতে ঋণ-সুবিধা পান না।