নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ একাধিক দাবিতে কলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ৯টি বাম ছাত্র ও যুবসংগঠনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মী ও সমর্থকেরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

শুক্রবার বিকেলে কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের কেন্দ্রস্থল ধর্মতলায় গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে ভারতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাঁদের দাবি, একটি শক্তিশালী চক্র শাসক দলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিবছর বিপুল অর্থের বিনিময়ে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করছে।

কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব দেন দেবপ্রিয় গাঙ্গুলি। জানা গেছে, সিজেপি আলাদাভাবে মিছিল করতে চাইলেও কলকাতা পুলিশ অনুমতি দেয়নি, ফলে পরবর্তীতে তাঁরা বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে এক হয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন।

অন্যদিকে, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র প্রসাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আরও ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে শিক্ষাসচিবকে অপসারণ করে পঞ্চায়েত বিভাগে বদলি করা হলেও শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা; তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

কলকাতার এই বিক্ষোভ সমাবেশে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে তাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা যোগ দেন। বর্তমানে এই বিক্ষোভ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের সাংস্কৃতিক জগতের অনেক তারকা। চলচ্চিত্র নির্মাতা অঞ্জন দত্ত, অভিনেতা জিৎ, সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং, অভিনেতা কমল হাসান, সালমান খান, রাজকুমার রাও, প্রীতি জিনতা, কারিনা কাপুর, টুইঙ্কল খান্না, আলিয়া ভাট এবং ক্রীড়াবিদ অভিনব বিন্দ্রা ও শচীন টেন্ডুলকার তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁরা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।