অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম না দ্বিতীয় টেস্ট, কোনটিতে নাহিদ রানাকে পাওয়া যাবে সেটিই এখনো নিশ্চিত নয়। শুধু নাহিদ নন, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলামের চোট নিয়েও উদ্বেগে বাংলাদেশের নির্বাচকেরা। গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটারের মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় আটকে আছে দল ঘোষণাও।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, শনিবারের মধ্যে ক্রিকেটারদের চোটের পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেতে পারে। এরপরই অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ঘোষণা করতে চান তারা।

বাশার বলেন, ‘একটু চাপ আছে। কারণ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আশা করছি, কালকের মধ্যে পরিষ্কার চিত্র পেয়ে যাব। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে যেতে পারলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা যায়। কিন্তু চোটের কারণে কাউকে না পেলে সেটি বড় ধাক্কা হবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শরীরের বাঁ পাশে চোট পান নাহিদ। ২.৩ ওভার বোলিং করার পর মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। পরে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচেও খেলতে পারেননি এই পেসার।

নাহিদের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ হয়ে গেছে কি না, সেটিও এখনই নিশ্চিত করেননি প্রধান নির্বাচক। বাশার বলেন, ‘আমরা এখনো পরিষ্কার নই। প্রথম টেস্ট বা দ্বিতীয় টেস্ট, কিছুই পরিষ্কার নয়। সে আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা। একটি টেস্টের জন্যও যদি তাকে পাওয়া যায়, সেটিও অনেক বড় ব্যাপার হবে।’

নাহিদের পাশাপাশি লিটন ও শরিফুল বাংলাদেশের নিয়মিত একাদশের ক্রিকেটার। তাদের চোটের কারণে নির্ধারিত সময়েও দল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচক কমিটি।

বাশার বলেন, ‘আমাদের পাঁচ-ছয় দিন আগেই দল ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু চোটগুলোর কারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নাহিদ, লিটন ও শরিফুল আমাদের নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়। তাদের কাউকে না পেলে সেটি বড় ধাক্কা হবে।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে এবাদত হোসেনের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা এই পেসারের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও আছে। তবে পরিবারের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

‘ইবাদতের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে আগে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। যাওয়ার আগে ভিসা না করায় তার কিছু সমস্যা আছে। পরিবার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ সে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে। নিয়মিত সবাইকে পেয়ে গেলে চিন্তা নেই। না পেলে বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে’, বলেন বাশার।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নাহিদকে কেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানো হয়েছিল, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে প্রধান নির্বাচকের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করেই তাকে খেলানো হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নাহিদ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুলকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে রাখা হয়নি। নাহিদ তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটি খেলেছিলেন। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোট পাওয়ার আগে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

বাশার বলেন, ‘এটি শুধুই একটি দুর্ঘটনা। চোটটি হয়তো আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। এখানে না হলে টেস্ট ম্যাচেও হতে পারত। একজন বোলারের বেশি বোলিং যেমন চিন্তার, কম বোলিংও তেমন উদ্বেগের। টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে তাদের নির্দিষ্টসংখ্যক ওভার বোলিং করা প্রয়োজন ছিল।’

ডারউইনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট। দুটি ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।