জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় চিরকুটে প্রাণনাশ ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এক ব্যক্তির তিনটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হরিসারা চাপাগাছি গ্রামে তিনটি পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের এ ঘটনা ঘটে। পুকুর তিনটি বর্গা নিয়েছেন কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। ভাই নুরুজ্জামানকে নিয়ে তিনি পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করেছেন।
.ধারদেনা করে পুকুর তিনটি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করেছি। সকালে গিয়ে দেখি, সব মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাছ বিক্রির টাকায় পরিবারের সংসার চলত।কামরুজ্জামান, মৎস্যচাষি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ৬০ হাজার টাকায় তিনটি পুকুর বর্গা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন কামরুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখেন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি কামরুজ্জামান বলেন, ‘ধারদেনা করে পুকুর তিনটি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করেছি। সকালে গিয়ে দেখি, সব মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাছ বিক্রির টাকায় পরিবারের সংসার চলত।’
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কামরুজ্জামানের ছোট ভাই নুরজ্জামান। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় চার মাস আগে গভীর রাতে তাঁদের বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাড়িতে হত্যার হুমকি দিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট ফেলে যায়।
.লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে ভয়ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেন। এ ছাড়া পূর্বশত্রুতার জের ধরে কয়েকজন প্রতিবেশী দীর্ঘদিন ধরে কামরুজ্জামান ও নুরজ্জামানদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
বিষ দিয়ে পুকুরের মাছ নিধনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.অভিযোগকারী নুরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি গত বুধবার মিমাংসা হয়েছে। এর চার মাস আগে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা দশ বিঘার জমির ধানের খড়ের পালা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আজ থেকে প্রায় দশ দিন আগে বাড়ির দেয়ালে হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েকটি চিরকুট টাঙানো হয়। এর মধ্যে একটি চিরকুটে লেখা ছিল ‘শাবধানে থাকিস। তোর হাতে দুই বছর টাইম আছে। তোর একটা ভুলের কারণে তুই মরবু।’
নুরুজ্জামান বলেন আজকে পুকুরের পানিতে তিনটি চিরকুট পাওয়া যায়। একটি চিরকুটে লেখা ছিল ‘তোদের আর ছাড়ব না’, অপর একটিতে লেখা ছিল ‘যেমন করেছিস, তেমন ফল পাবি’। অন্য একটি চিরকুটে চাকুর ছবি আঁকা ছিল।
.খবর পেয়ে পুকুর তিনটি দেখতে গিয়েছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বায়োজীদ হোসেন। তিনি জানান, সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেছেন। এর আগে ওই পরিবারের খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া ও চিরকুটে হুমকির অভিযোগও শুনেছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।