বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। একই ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না।

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানত তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে। এগুলো হলো—মেয়াদ শেষ হওয়া, পদত্যাগ এবং অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ। শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতাসহ যেকোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। আবার গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসনের মাধ্যমেও তাকে অপসারণ করা যেতে পারে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

যেভাবে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকেই এ পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধানগুলো হলো—

যোগ্যতা: প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

নির্বাচন পরিচালনা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

মনোনয়ন: একজন প্রার্থীকে মনোনয়নের জন্য অন্তত দুজন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়। তাঁদের একজন প্রস্তাবক এবং অন্যজন সমর্থক হিসেবে থাকেন।

ভোটগ্রহণ: সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

সময়সীমা: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। আর অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ে সংসদের অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়