পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় হাঁস কামড়ানোর অভিযোগে দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা বাজারসংলগ্ন খেজুরতলা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন এবং পাশে থাকা আরও একজন ব্যক্তি তাদের মারধর করছেন। প্রাণ বাঁচাতে ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই কুকুর দুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত কুকুর দুটির মালিক স্থানীয় চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর প্যাদা। সম্প্রতি ওই এলাকার আবদুর রসিদ হাওলাদারের ছেলে মনজু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কিছু বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করে। এই ঘটনায় মনজু হাওলাদার জাহাঙ্গীর প্যাদার কুকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিন হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তবে জাহাঙ্গীর প্যাদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কুকুর দুটিকে ধরে রশিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর প্যাদা জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি কুকুর দুটি লালনপালন ও দেখাশোনা করে আসছেন এবং নিয়মিত তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, "মনজু হাওলাদার (৩৫) ও তাঁর চাচাতো ভাই জহির হাওলাদার (৩৭) তাঁর সামনেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। যেদিন মনজু হাওলাদারের হাঁসের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে, সেদিন কুকুর দুটি বাড়িতেই ছিল। বিষয়টি মনজু হাওলাদারকে জানানো হলেও তিনি তা আমলে নেননি।"
এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনজু হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, "ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।