কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের কানজরপাড়া অংশে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, "বেলা তিনটার দিকে ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে সভা চলার সময় কিছু লোক ইউপি কার্যালয়ে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু করেন।"

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা ভবনের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেলের আঘাতে তিনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সীমানা নির্ধারণ ও বিভক্তিকরণ কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাহের, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনাইদ আলীসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। ওই সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওয়ার্ড বিভক্তকরণ ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলাকালে বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি পক্ষ ‘ইউনিয়ন বিভক্তি মানব না, ওয়ার্ড বিভক্তি মানব না’ স্লোগান দিতে শুরু করে।

ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড বিভক্তি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও হোল্ডিং নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি পরিবর্তনে জটিলতা তৈরি হবে। তাই তারা ইউনিয়ন অবিভক্ত রাখার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, অন্য পক্ষই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাহের জানান, সভা চলাকালীন হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "হামলাকারী ব্যক্তিরা পরিষদে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধর শুরু করেন। তাতে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।"

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তিনিসহ কয়েকজন পাশের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করে।

অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনাইদ আলী চৌধুরী অভিযোগ করেন, "সরকারি কাজ বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।"

তিনি আরও জানান, হামলায় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন, যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়। তবে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পদবি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ প্রদান করতে পারেননি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"