গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কিশোর মিশকাত হোসেনের (১৫) কাছ থেকে ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়েছিল ছিনতাইকারীরা। মুক্তকণ্ঠয় খবর প্রকাশের পর এক ব্যক্তি আজ বৃহস্পতিবার মিশকাতকে একটি নতুন ইজিবাইক উপহার দিয়েছেন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আজ দুপুরে মিশকাত ও তাঁর মা মিনারা খাতুনের হাতে নতুন ইজিবাইকের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলীসহ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
.ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের একমাত্র ছেলে মিশকাত। সে তালসার কাজী লুৎফর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বড় বোন রিয়া খাতুনের বিয়ের পর মাকে নিয়েই তার সংসার।
গত শনিবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে তালসার থেকে কোটচাঁদপুর শহরে যায় মিশকাত। সন্ধ্যায় ফেরার পথে ফুলবাড়ি থেকে যাত্রীবেশে চারজন ছিনতাইকারী তার ইজিবাইকে ওঠে। তারা বাজার–গোপালপুরের বাজারে যাবে বলে জানায়। রাত আটটার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর আরেকটু সামনে যাওয়ার কথা বলে তারা ইজিবাইকটি চোরকোল মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে মিশকাতকে মারধর করে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ইজিবাইকটি নিয়ে চলে যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর মিশকাত ওই ইজিবাইকটি চালিয়েই সংসারের উপার্জন করত। ওই ঘটনার পর পরিবারটি দিশাহারা হয়ে পড়ে।
.বাবা নেই, একমাত্র সম্বল ইজিবাইকটিও ছিনতাই হলো, দিশাহারা কিশোর মিশকাত.নতুন ইজিবাইক পেয়ে খুব খুশি মিশকাত। ইজিবাইকটি চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যাবে বলে সে জানায়।
সংসারের একমাত্র উপার্জনের উৎস স্বামীর রেখে যাওয়া ইজিবাইকটি ছিনতাই হওয়ায় সংসার প্রায় ডুবতে বসেছিল বলে জানান মিশকাতের মা মিনারা খাতুন। তিনি বলেন, সেখান থেকে মুক্তকণ্ঠের মাধ্যমে একজন দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় তাঁদের তুলে আনা হলো। এখন তাঁরা মা–ছেলে বেঁচে থাকার অবলম্বন পেলেন।