ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলায় আগে থেকে এফআইআরের আসামি হওয়া ব্যক্তিদের রাজপথে নামা ঠেকাতে তিনটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে মুম্বাই পুলিশ। শিক্ষার্থীদের বাড়িতে অবস্থান করতে ফোন করা, সরাসরি বাড়িতে পুলিশ পাঠানো এবং লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলার মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। একাধিক বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক দীপশিখা ভারে এক বিক্ষোভকারীকে বাড়িতে থাকতে এবং তার প্রমাণ হিসেবে ‘লাইভ লোকেশন চালু রাখতে’ বলেছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দীপশিখা ভারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে থানার অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ওই বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যদিও তাঁকে আটক করা হয়নি।

অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ সরাসরি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। একজন বিক্ষোভকারী জানান, ‘আমার বাড়িতে পুলিশ যায়নি। কিন্তু অনেক বিক্ষোভকারী ছিলেন তরুণ, যাঁরা পরিবারকে বিষয়টি জানাননি। পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে তাঁদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকেও নিরুৎসাহিত করেছে।’

মুম্বাইয়ের দাদার এলাকার শিবাজি পার্ক থানা থেকে ফোন পাওয়া ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যাবে বলে তাঁকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘এটা যে আমাদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকানোর একটি কৌশল, তা স্পষ্ট।’

পুলিশের এই ফোন ও সতর্কবার্তার কারণে গত বুধবার (২২ জুলাই) অনেক তরুণ বিক্ষোভকারী কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর জোট মুম্বাই এগেইনস্ট সাপ্রেশন অব স্টুডেন্টসের (এমএএসএস) এক সদস্য জানান, গত সোম ও মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর অনেকের কাছে নোটিশ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালে কেউ কেউ ফোন পান। তাঁদের বলা হয়, একটি এফআইআরে তাঁদের নাম রয়েছে। তাই আর কোনো বিক্ষোভে তাঁরা যেন যোগ না দেন। আবার একই সতর্কবার্তা দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা অন্যদের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।’

দাদার এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁর এক বন্ধু সোমবারের বিক্ষোভের পর নোটিশ পেয়েছিলেন এবং বুধবার পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আর কর্মসূচিতে যাননি। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, আগামীকাল থেকে আর কোনো সমাবেশ হবে না। আমরা একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আমার বন্ধু আর আসতে পারেনি। তাঁকে বলা হয়েছিল, যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে নোটিশ পেয়েছেন, তাই তাঁকে আরেকটি বিক্ষোভে দেখা গেলে তাঁর জন্য সমস্যা হতে পারে।’

অন্যদিকে, পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যেসব তরুণ-তরুণী এফআইআরের পরিণতি পুরোপুরি বোঝেন না, তাঁদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বিরত রাখাই পুলিশের উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ সংগঠিত করতে ব্যবহৃত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে আমরা এমন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পেয়েছি, যেগুলো বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন। আমরা তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়া নিরুৎসাহিত করা। কারণ, এতে তাঁদের ভবিষ্যৎ ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের মতো প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।’