নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রসচিব ও বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীরকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেহেদী মোর্শেদ।

জানা যায়, গত ১৯ জুলাই এইচএসসি ইতিহাস প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ওই প্রশ্নেই প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ভুলটি শনাক্ত করে। এরপর সেই পরীক্ষা স্থগিত করে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান। তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেহেদী মোর্শেদ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থলে সহকারী অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে।