বান্দরবানের লামায় সরকারি মাতামুহুরী কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় দুই একর জমি দখলের অভিযোগ তুলে তা উদ্ধার করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সমাধানের চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে লামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সরকারি মাতামুহুরী কলেজের বিএসএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং কলেজের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে দ্রুত জমি দখলমুক্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মোনায়েম বলেন, সরকারি মাতামুহুরী কলেজ লামা এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি কলেজের সম্পদ। শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে কলেজের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে দখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার করে কলেজের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামসুল আলম, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম খাঁ, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইয়াসির আরাফাত, বাংলা বিভাগের প্রভাষক আকতার কামাল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মনজুর-ই-এলাহী এবং দর্শন বিভাগের প্রভাষক সুমাইয়া আক্তার। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি মাতামুহুরী কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় দুই একর জমি দীর্ঘদিন ধরে সুমন গং ব্যক্তি মালিকানার দাবি করে দখলে রেখেছেন। ফলে কলেজের নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনায় জমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা বলেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি যদি দীর্ঘদিন দখলে থাকে, তাহলে তা শুধু কলেজের সম্পত্তির ক্ষতি নয়, বরং শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসক এবং শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত দখলমুক্ত করা, জমিটি কলেজের অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কলেজের জমিসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র ও মালিকানা যাচাই করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন গংয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের পর অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি, জমিটি নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নথিপত্র যাচাই করে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং আইনগতভাবে প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকারি জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।