ফরিদপুরের সালথায় নয় বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শওকত মিয়া (৩৮) নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর একটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নয় বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিসি)-এ ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ঘটনার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা-পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ ছয় বছর পর আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অর্চনা দাস বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এটি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।