ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিক্ষোভের মুখে এবার মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার তিনি এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের একটি অংশ। আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ যারা নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি–২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সারা দেশ থেকে মানুষ দিল্লিতে ভিড় করছেন। এছাড়া কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং শিবসেনাসহ (ইউবিটি) বিভিন্ন বিরোধী দল এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে লোকসভা অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়, যার ফলে দিল্লির ওই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠনের ঘোষণার পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা চার শব্দের একটি বার্তায় জানিয়েছে, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান মাস্ট রিজাইন’, যার অর্থ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়া সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়’—এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবি দিয়ে একটি মিম পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘হাই, আমার নাম নাথিং (কিছুই নয়)।’