জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন, ‘জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আপনি দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকেন না কেন—এই গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে সেই যুক্তিতে আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যেমন অবৈধ, তেমনি আপনার বিএনপি সরকারও অবৈধ।’

বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বানিনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কিছু চিন্তার খোরাক দিয়ে যেতে চাই। চায়ের দোকানে, আড্ডায় বা কাজের মাঠে আপনারা বিষয়গুলো নিয়ে বিবেক দিয়ে চিন্তা করবেন। ২০-৩০ বছরের তরুণ প্রজন্ম আজ পরিবর্তন চায়, তবে ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সি প্রবীণদের এই পরিবর্তনের নেতৃত্বের জায়গায় থেকে পরামর্শ ও সাহস দিতে হবে। আমাদের কথা যদি সত্য মনে হয় তবেই পাশে দাঁড়াবেন, মিথ্যা হলে একাত্মতা জানানোর দরকার নেই।’

বিগত সরকারের উন্নয়ন খাতের দুর্নীতি এবং বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে সার্জিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকাই লুটপাট করা হয়েছে। আর এখন বিএনপি মেগা প্রকল্পের নামে সারা দেশে খাল খননের নতুন লুটপাট শুরু করেছে। শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মী এবং ১০-১৫ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকায় তুলে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। পরে ড্রেজার বা মেশিন বসিয়ে মাটি, বালি ও পাথর লুটপাট করা হচ্ছে।’

স্থানীয় অবকাঠামো ও শিক্ষাঙ্গনের স্বজনপ্রীতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘লালমনিরহাটসহ সারাদেশে কোনো উন্নয়নকাজের কাজ শুরু করার আগেই নেতাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। টেন্ডার নির্দিষ্ট দলীয় সংগঠনকে দিতে হয়, কাজের মান তিন নম্বরে নেমে যায়। একইভাবে প্রাইমারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে হলেও বিএনপির পদধারী হতে হয়। সে যত বড় দুর্নীতিবাজ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকুক না কেন, দলীয় পদ না থাকলে সুযোগ নেই। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

মাদক সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের বিষয়ে সতর্ক করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে মাদক ঢুকিয়ে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ ও কতিপয় রাজনীতিক এর পেছনে জড়িত। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।’

সাবেক কর্মকর্তাদের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের কারিগর যেসব ডিসি-এসপিরা ভেবেছিলেন পদোন্নতি পেয়ে বড় বড় পদ বাগিয়ে নেবেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তাদের অনেকের চাকরি পর্যন্ত নেই।’

লালমনিরহাট জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ সুলতান নাসির উদ্দীন নাহিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।