দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই নীতির কথা তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই দেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালনার মূল ভিত্তি হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটবে এ নীতির মাধ্যমে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, বহুমুখী পরিবহন করিডর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেন।
পৃথক এক বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয় এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়।
পরবর্তীতে বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয় এবং খলিলুর রহমান মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠক ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খলিলুর রহমান।