সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করার পর শ্যামনগরে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। একই সঙ্গে তারা সংসদ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় এসেছিলেন এই সংসদ সদস্য।
বুধবার বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শ্যামনগর চৌরাস্তা ও বংশীপুর মোড়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সেখানে উপস্থিত বিএনপিকর্মী মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ বলেন, "নৈতিকতা বির্বজিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করায় স্থানীয় মানুষজন খুশি হয়েছে। এ কারণে তারা সাধারণ মানুষজনের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।"
পরে রাতে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, "নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু দলীয় বহিষ্কারেই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।"
এ সম্পর্কে বুধবার রাতে আটটার দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, "কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে জেলা জামায়াত স্বাগত জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী একটি নৈতিক আদর্শের সংগঠন। সেই জায়গা থেকে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ সিদ্ধান্তে কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না। ঘটনাটিতে দলের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।"