বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে তিন ধাপের উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের এই হালনাগাদ তালিকায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৯৭তম। এবারের সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। যথারীতি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর এবং তালিকার একেবারে শেষে রয়েছে আফগানিস্তান।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স গত মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে এই সূচকটি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কতটি দেশে যাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করেই এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৩৭টি।

বাংলাদেশের অবস্থানের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত বছর দেশটি ১০০তম অবস্থানে ছিল। এর আগে ২০২৪ সালে অবস্থান ছিল ৯৭তম এবং ২০২০ সালে ৯৮তম। অন্যদিকে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশ যথাক্রমে ১০৮তম, ১০৩তম ও ১০১তম অবস্থানে ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম।

এবারের সূচকে শীর্ষ অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশ ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার তিনটি দেশ—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই তিন দেশের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুবিধা পান। তৃতীয় স্থানে থাকা সুইডেনের পাসপোর্টধারীরা ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের ১১টি দেশ—বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এই দেশগুলোর নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। পঞ্চম অবস্থানে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড (১৮৫টি দেশ) এবং ষষ্ঠ অবস্থানে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য (১৮৪টি দেশ) রয়েছে।

সপ্তম অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ার পাসপোর্টধারীরা ১৮৩টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অষ্টম অবস্থানে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া (১৮২টি দেশ) এবং নবম অবস্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া (১৮১টি দেশ) রয়েছে। দশম স্থানে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীরা ১৮০টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পান।

অন্যান্য দেশের মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে ১৬তম অবস্থানে রয়েছে, যাদের নাগরিকরা ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। ইসরায়েলের অবস্থান ১৮তম (১৬৬টি দেশ)। যুদ্ধরত ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ৩১তম ও ৪২তম; ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে (৩৭টি দেশ)। এছাড়া সৌদি আরবের অবস্থান ৫৪তম এবং চীনের অবস্থান ৬০তম (৮৩টি দেশ)। হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম অবস্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের, যার অবস্থান ৫২তম (৯৩টি দেশ)। এরপরই রয়েছে ভারত (৮১তম, ৫৫টি দেশ), ভুটান (৮৮তম, ৪৭টি দেশ) এবং মিয়ানমার (৯১তম, ৪৩টি দেশ)। শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৯৪তম (৩৯টি দেশ)। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে নেপাল (৩৪টি দেশ) এবং ১০১তম অবস্থানে পাকিস্তান (২৯টি দেশ) রয়েছে।

তালিকার একদম নিচে ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যাদের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। এছাড়া ইরাক ১০২তম (২৮টি দেশ) এবং সিরিয়া ১০৩তম (২৫টি দেশ) অবস্থানে রয়েছে।